জেরুজালেমের মাহানে ইয়েহুদা বাজারে কলা সাজানো থাকে সুশৃঙ্খল হলুদ সারিতে—পরিষ্কার, নরম, আর উজ্জ্বল। কিন্তু সেই পরিচিত হাত যেটা আগে সহজে এগিয়ে যেত, এখন মাঝ-আকাশে থেমে যায়।
“দশ শেকেল এক কিলো,” বিক্রেতা বলেন, প্রায় ক্ষমা চেয়ে। ক্রেতারা ভ্রু তোলে, হালকা হাসে, আর এগিয়ে যায়। একসময় ইসরায়েলের সবচেয়ে সাধারণ ও সস্তা ফল—কলা—এখন জীবিকার ব্যয়ের প্রতীক।
জেরুজালেমে ফলের দাম বাড়ছে
কিছুদিন আগেও তিন থেকে পাঁচ শেকেলেই এক কিলো কলা মিলত। আজ দশ শেকেল স্বাভাবিক—অনেক দোকানে এর থেকেও বেশি। জেরুজালেমের পরিবারগুলো প্রজন্ম ধরে কলা খেয়েছে—কেক, শেক, স্কুলে যাওয়ার পথে নাস্তা, আর শাবাতের মিষ্টান্নে।
কিন্তু দীর্ঘ খরা, চরম আবহাওয়া, পানির বাড়তি খরচ, এবং যুদ্ধে শ্রমিকের ঘাটতি—জর্ডান ভ্যালি আর কার্মেল কোস্টের কৃষকদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। জেরুজালেম দ্রুত এই সংকট অনুভব করছে।
জীবনযাত্রার খরচ ও খাদ্যের দাম
বাজারের প্রতিটি দোকানেই একই দৃশ্য—কম কলা, বেশি হিসাবি ক্রেতা, আর ছোট শপিং-ব্যাগ। কেউ কেউ মজা করে বলে—কলাই নাকি এখন “মিডল-ক্লাসের বিলাসিতা”।
কিন্তু জেরুজালেমের মানুষ বুদ্ধিমান। বাজারের পাশের একটি ক্যাফে এখন বিক্রি করছে “বানানা স্লাশ উইথ র’ তাহিনি”—মিষ্টি আর নোনার অদ্ভুত মিশ্রণ, যা নতুনদের চমকে দেয়, আর নিয়মিত ক্রেতাদের মন জয় করে।
বানানা স্লাশ উইথ তাহিনি
পরিবারগুলো এখনো বানাচ্ছে কলার কেক, ছাত্ররা ক্লাসে যাওয়ার পথে একটা কলা কিনে নিচ্ছে, আর পর্যটকেরা ভাবছে—কীভাবে এত সাধারণ ফল হঠাৎ এত দামী হল।
এক শহর, যে বেঁচে আছে স্মৃতি, আশা, আর বিশ্বাস নিয়ে—কলা রয়ে গেছে ছোট্ট সান্ত্বনা। ধীরে ধীরে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া, বাজারের বেঞ্চে বসে একটু হাসি, অথবা বিকেলের স্মুদি—হয়তো দাম বেড়েছে, কিন্তু জেরুজালেম কলাকে ছাড়েনি।


