হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন, একটি ফিলিস্তিনি আইনি সংস্থা, প্রাগের সর্বোচ্চ অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে জেরুজালেমের র্যাপার ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্য চুরিয়েলির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে তিনি গাজায় যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং তার তাৎক্ষণিক গ্রেফতার দাবি করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, চুরিয়েলি বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্রে অবস্থান করছেন এবং ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রাগে একটি সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তি হলো তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য, তার বক্তব্য এবং মঞ্চে প্রদর্শিত ভিডিও।
চুরিয়েলির পরিচিত ইতিহাস কী?
৩০ বছর বয়সী চুরিয়েলি জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করেন এবং শহরের হিমেলফার্ব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তরুণ বয়সে তিনি অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়ন ছিলেন এবং সামরিক সেবার সময় দুভদেভান ইউনিটে কাজ করার মধ্য দিয়ে র্যাপ সংগীতে সম্পৃক্ত হন। তিনি নিয়মিত জেরুজালেমের ইয়েলো সাবমেরিন মঞ্চে পারফর্ম করেন।
হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন জানায়, তিনি ফায়ার অ্যারোজ ব্রিগেড – ৫৫১ এর রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন ৬৯৯ এ দায়িত্ব পালন করেন, যা ২৭-২৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের অংশ হিসেবে গাজায় প্রবেশ করেছিল।
তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে একাধিকবার গাজায় প্রবেশ, ধারাবাহিক মোতায়েন এবং ভবন ধ্বংসের ঘটনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত মেলে। সংস্থার দাবি, ৮ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে বেইত হানুনে ইউএনআরডব্লিউএ স্কুলের নিকটস্থ একটি বেসামরিক ভবন ৫৫১ ব্রিগেড ধ্বংস করে এবং জিওলোকেশন বিশ্লেষণসহ সামরিক সূত্রে দেখা যায় চুরিয়েলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাটি এটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।
তারা আরও জানায়, গাজা থেকে ফিরে চুরিয়েলি “আনাদার ডে ইন গাজা” নামে একটি গান প্রকাশ করেন, যা তাদের মতে ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ডকে মহিমান্বিত করে, যদিও জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি অনুষ্ঠানে চুরিয়েলি ইসরায়েলি সেনাদের ফিলিস্তিনি বাড়িতে অভিযান ও ভবন ধ্বংসের বাস্তব ভিডিও প্রদর্শন করেছিলেন। এছাড়াও টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি “গাজাকে টুকরো টুকরো করে দাও” – এমন উক্তি ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কী?
হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন (এইচআরএফ) ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাসেলসে “৩০ মার্চ আন্দোলন” এর আইনি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটির নামকরণ করা হয়েছে হিন্দ রজবের নামে – ছয় বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশুকে, যিনি জানুয়ারি ২০২৪-এ গাজায় পরিবারের ছয় সদস্য ও তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুইজন প্যারামেডিকসহ নিহত হন।
সংস্থাটি জানায়, তাদের লক্ষ্য হলো “ইসরায়েলি দায়মুক্তির চক্র ভাঙা” এবং গাজার ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা – নথিপত্র সংরক্ষণ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরের মাধ্যমে।


